﻿হিতোপদেশ.
4.
হে আমার বাছারা, একজন বাবার উপদেশ শোনো; মনোযোগ দাও ও বিচক্ষণতা লাভ করো। 
আমি তোমাদের নির্ভরযোগ্য শিক্ষা দিচ্ছি, তাই আমার দেওয়া শিক্ষা পরিত্যাগ কোরো না। 
কারণ আমিও এক সময় আমার বাবার ছেলে ছিলাম, তখনও সুকুমার ছিলাম, ও আমার মায়ের দ্বারা লালিত হয়েছিলাম। 
তখন বাবা আমাকে শিক্ষা দিয়েছিলেন, ও বলেছিলেন, “সর্বান্তঃকরণে আমার বলা কথাগুলি ধরে রেখো; আমার আদেশগুলি পালন কোরো, ও তুমি বেঁচে যাবে। 
প্রজ্ঞা অর্জন করো, বিচক্ষণতা অর্জন করো; আমার কথাগুলি ভুলে যেয়ো না বা সেগুলি থেকে সরে যেয়ো না। 
প্রজ্ঞাকে পরিত্যাগ কোরো না, ও সে তোমাকে রক্ষা করবে; তাকে ভালোবেসো, ও সে তোমাকে পাহারা দেবে। 
প্রজ্ঞার আরম্ভ এইরকম: প্রজ্ঞা অর্জন করো। এর মূল্যরূপে তোমার যথাসর্বস্য দিতে হলেও, বিচক্ষণতা অর্জন করো। 
তাকে লালনপালন করো, ও সে তোমাকে উন্নত করবে; তাকে সাগ্রহে গ্রহণ করো, ও সে তোমাকে সম্মানিত করবে। 
সে তোমার মাথার শোভাবর্ধন করার জন্য এক ফুলমালা দেবে ও তোমাকে চমৎকার এক মুকুট উপহার দেবে।” 
হে আমার বাছা, শোনো, আমি যা বলি তা গ্রহণ করো, ও তোমার জীবনের আয়ু সুদীর্ঘ হবে। 
আমি তোমাকে প্রজ্ঞার পথের বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছি ও সোজা পথে চালাচ্ছি। 
তুমি যখন চলবে, তোমার পদক্ষেপ ব্যাহত হবে না; তুমি যখন দৌড়াবে, তখন হোঁচট খাবে না। 
উপদেশ ধরে রেখো, তা ছেড়ে দিয়ো না; তা ভালোভাবে পাহারা দাও, কারণ তাই তোমার জীবন। 
দুষ্টদের পথে পা বাড়িয়ো না বা অনিষ্টকারীদের পথে হেঁটো না। 
সে পথ এড়িয়ে চলো, সে পথে ভ্রমণ কোরো না; সেখান থেকে ফিরে এসো ও নিজের পথে চলে যাও। 
কারণ অনিষ্ট না করা পর্যন্ত তারা বিশ্রাম নিতে পারে না; কাউকে হোঁচট না খাওয়ানো পর্যন্ত তাদের চোখে ঘুম আসে না। 
তারা দুষ্টতার রুটি খায় ও হিংস্রতার দ্রাক্ষারস পান করে। 
ধার্মিকদের পথ প্রভাতি সূর্যের মতো, যা মধ্যাহ্ন পর্যন্ত ক্রমাগত উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হতেই থাকে। 
কিন্তু দুষ্টদের পথ ঘন অন্ধকারের মতো; তারা জানেই না কীসে তারা হোঁচট খায়। 
হে আমার বাছা, আমি যা বলি তাতে মনোযোগ দাও; আমার কথায় কর্ণপাত করো। 
সেগুলি তোমার দৃষ্টির অগোচর হতে দিয়ো না, সেগুলি তোমার হৃদয়ে গেঁথে রাখো; 
কারণ যারা সেগুলি খুঁজে পায় তাদের পক্ষে সেগুলি জীবন ও তাদের সারা শরীরের স্বাস্থ্যস্বরূপ। 
সর্বোপরি, তোমার হৃদয়কে পাহারা দিয়ে রাখো, কারণ তুমি যাই কিছু করো না কেন, তা সেখান থেকেই প্রবাহিত হয়। 
তোমার মুখকে নষ্টামি-মুক্ত রাখো; তোমার ঠোঁট থেকে নীতিভ্রষ্ট কথাবার্তা দূরে সরিয়ে রাখো। 
তোমার চোখ সোজা সামনে তাকিয়ে থাকুক; স্থিরদৃষ্টিতে সরাসরি সামনের দিকে তাকাও। 
তোমার হাঁটা পথের দিকে সতর্ক নজর দাও ও তোমার সমস্ত পথে অবিচল হও। 
ডাইনে বা বাঁয়ে ফিরো না; মন্দ থেকে তোমার পা দূরে সরিয়ে রাখো। 
